সংগঠন পরিচিতি
মহান আল্লাহর সৃষ্ট এ বিশাল পৃথিবীতে মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা। এ মানব জাতিকেই মহান আল্লাহ তা’আলা প্রদান করেছেন ‘‘খলিফাতুল্লাহ’’ বা আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের মহান দায়িত্ব। এরশাদ হচ্ছে ‘‘নিশ্চয়ই আমি ভূপৃষ্ঠে আমার প্রতিনিধি প্রেরণ করব।’’
দায়িত্বভোলা মানব জাতিকে সে মহান দায়িত্ববোধের ব্যাপারে সচেতন করার উদ্দেশ্যেই যুগে যুগে অসংখ্য নবী ও রাসূলের আবির্ভাব ঘটেছে। বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের মধ্য দিয়ে নবী-রাসূল (আলাইহিমুস্ সালাম) আগমনের সে অব্যাহত ধারার পরিসমাপ্তি ঘটেছে। আর সে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে ওয়ারিসে আম্বিয়া তথা ওলামায়ে কেরামের প্রতি।
দায়িত্বশীল ওলামায়ে কেরাম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পন্থায় সে দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ১৯৮১ সালে দেশের বিরাজমান সার্বিক পরিস্থিতি অবলোকন করে তৎকালীন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক নেতা আমীরে শরীয়ত হযরত মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) ‘‘বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন’’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জাতিকে ‘‘খলিফাতুল্লাহ’’ এর দায়িত্ব সচেতন করার পথ সুগম করেন। হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) এর কর্মসূচি দেশের সীমা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জাতির ভবিষ্যত রাহবার ছাত্র সমাজ আজ শত বিভ্রান্তির শিকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আজ শুনা যায় অস্ত্রের ঝনঝনানি। ছাত্র রাজনীতির নামে অবৈধ হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার দ্বারা সমাজের কর্তাব্যক্তিরা ছাত্র ও যুব সমাজকে অশ্লীলতা ও চরিত্র বিধ্বংসী কর্মকান্ডে লিপ্ত করে দিচ্ছে। দুনিয়াবী স্বার্থবাদী মহল তাদের ঘৃণ্য কর্মকান্ডে ছাত্র সমাজকে ব্যবহার করে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এমন নাজুক মুহূর্তে ছাত্র সমাজকে স্বার্থান্বেষীদের ভয়ংকর থাবা থেকে উদ্ধার করে আগামী দিনের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রচলিত ছাত্র রাজনীতির বিকল্প এমন একটি আদর্শ ছাত্র সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে দেখা দিয়েছে, যেখানে ছাত্রদেরকে সুসংগঠিত করার মাধ্যমে তাদের প্রধান কর্তব্য-লেখাপড়ায় উৎসাহিত করা হবে এবং সেই সাথে গঠনমূলক ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়ে এলায়ে কালিমাতুল্লাহ বা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর খেলাফত তথা তাওহীদ ও রেসালাতের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এ প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে খেলাফত প্রতিষ্ঠার মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিগত ৮ই জুন ১৯৯০ঈসায়ী, শুক্রবার এক সম্মেলনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলেনের সহযোগী সংগঠন হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলন।